রাজবাড়ী প্রতিনিধি ঃ
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে জোরপুর্বক ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ, কুপিয়ে জখম ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে রুহুল আমিন (৫১) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। সে বালিয়াকান্দি উপজেলার দুবলাবাড়ীয়া গ্রামের নজির মিয়ার ছেলে।
বালিয়াকান্দি থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে শনিবার রাজবাড়ী আদালতে সোপর্দ করেছে।
বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের চর ফরিদপুর গ্রামের সুশান্ত পালের বাড়ির সামনে সুজয় পালের মেহগনি বাগানের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
মামলার বাদী বলেন, গত ২৭ বছর পূর্বে রুহুল আমিনের সাথে তার বিয়ে হয়। সংসার জীবনে দুই মেয়ে আছে। পরে রুহুল আমিনের সাথে ১০ বছর বসবাস করার পর আদালতের মাধ্যমে তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়।
তবে দুই মেয়েকে ভরণপোষণ বাবদ প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দেওয়ার কথা থাকে। কয়েক বছর ধরে মেয়েদের ভরণপোষণের টাকা দিলেও গত কয়েক বছর ধরে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেয়। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।
গত ১৬ নভেম্বর বিকাল ৪ টার সময় বালিয়াকান্দি তার বোনের বাড়ী বেড়াতে আসেন। বোনের বাড়িতে দেখা করে সন্ধ্যা সাড়ে ৫ টার দিকে নিজের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। এরপর অভিযুক্ত রুহুল আমিন পায়ে হেঁটে বালিয়াকান্দি বাসস্ট্যান্ডে যাওয়ার পথে তালপট্টি মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। পরে ভ্যান যোগে বাড়ী যাওয়ার সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে চর ফরিদপুর গ্রামের সুশান্ত পালের বাড়ীর সামনের পাকা রাস্তায় পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা ২ জনসহ রুহুল আমিন একটি মোটরসাইকেলে এসে পথরোধ করে। এ সময় রুহুল আমিনসহ অজ্ঞাতনামা ২ জন তাদের কাছে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে ভয় দেখিয়ে ভ্যান থেকে নামিয়ে ভ্যান চালককে পাঠিয়ে দেয়। এরপর রুহুল আমিনসহ অজ্ঞাতপরিচয় ২ ব্যক্তি তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক চর ফরিদপুর গ্রামের সুজয় পালের মেহগনি বাগানে নিয়ে যায়। রুহুল আমিন জোর করে তার শরীরে চেতনানাশক ইনজেকশন দেন এবং চেতনানাশক ওষুধ খেতে বাধ্য করেন। কিছুক্ষণ পর শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়লে রুহুল আমিন অজ্ঞাত দুই আসামির সহায়তায় জোরপূর্বক ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে। ধর্ষণ করে এবং তার ব্যবহৃত বোরকা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় ও মাথায় কোপ মারে। তার চিৎকারে আশপাশের লোক এগিয়ে আসলে গলায় থাকা ৮ আনা ওজনের একটি সোনার চেইন চুরি করে নিয়ে যায়।
পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এসে মোবাইল ফোন থেকে পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়। স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় চিকিৎসার জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় পরিবারের সদস্যদের সাথে আলোচনা করে শনিবার সকালে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
বালিয়াকান্দি থানার এসআই পল্লব কুমার সরকার বলেন, মামলা দায়েরের পর আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে রাজবাড়ী আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ধর্ষিতার ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। অন্যান্য আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।